জন্মবিরতিকরণ বড়ি
জানার মধ্যে অনেক ভুল
পরিকল্পিত পরিবার গড়তে জন্মবিরতিকরণ বড়ির ওপর নির্ভর করেন বহু দম্পতি। তবে
কম জানা বা ভুল জানার কারণে অনেকে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির ভয় পান। বাস্তবে
জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিয়ে অনেক আশঙ্কাই অমূলক।
জান্নাত ও পারভেজ
বিয়ে করেছেন দুই মাস হয়। তাঁদের ইচ্ছে সামনের দুটো বছর সন্তান না নেওয়া।
কিন্তু জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে দুজনের কারোরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এক
বন্ধুর পরামর্শে পারভেজ প্রথমে নরপিল, পরে এমকন নামের জরুরি জন্মবিরতিকরণ
বড়ি এনে দেয় জান্নাতকে। জান্নাত দুই মাসে ওই পিল খেয়েছে চারবারের বেশি।
বিয়ের দু-তিন দিন আগে তাঁর পিরিয়ড ভালো হয়েছিল। কিন্তু ১৮ দিনের মাথায় আবার
পিরিয়ড হয়ে যায়, তবে মাত্র দুদিন থাকে আর পরিমাণে অল্প হয়। কয়েক দিন ভালো
থেকে আবারও হয় আর এখন পর্যন্ত অল্প অল্প হয়ে যাচ্ছে। আগে কখনো পিরিয়ডের এমন
অনিয়ম হয়নি। জান্নাত বেশ ভয় পেয়ে গেছে। এখন কী করা যায়?
পিরিয়ডের
এ সমস্যা মাসে বেশ কয়েকবার জরুরি জন্মবিরতিকরণ পিল নেওয়ার কারণে হয়েছে।
এটা কিছুদিন পর এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে এভাবে সব সময় জরুরি জন্মবিরতিকরণ
পিলের ওপর নির্ভর করা যাবে না। ওটা শুধু জরুরি অবস্থার জন্যই। কোনো
অবস্থায়ই এর ওপর নির্ভর করে স্বাভাবিক জন্মবিরতিকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা
যাবে না। জন্মবিরতিকরণের জন্য নিয়মিত জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
হতে পারে তা কনডম ব্যবহার কিংবা নিয়মিত পিল খাওয়া। এ দুটো পদ্ধতির যেকোনো
একটি।
বাচ্চা হওয়ার আগে পিল খেলে পরে গর্ভধারণে সমস্যা হয়?
পিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা
বাদ দিলে যেকোনো স্বল্পমাত্রার পিল জন্মবিরতিকরণে যেমন প্রায় শতভাগ
কার্যকর, তেমনি অত্যন্ত নিরাপদ। পিল বা খাবার বড়ি নিয়মিত খেলে তা ডিম্বাশয়
থেকে ডিম্বাণু উৎপাদন বন্ধ রাখে। পিল ছেড়ে দেওয়ার পরপরই সাধারণত আবার
নিয়মিত ডিম্বাণু উৎপাদন শুরু হয় এবং পরে দ্রুত গর্ভধারণ করা সম্ভব হয়। এ
ক্ষেত্রে যদি কেউ অনেক বছর টানা খেয়ে যান, তাহলে হয়তো গর্ভধারণে কয়েক মাস
সময় লাগতে পারে। পিল ছেড়ে দেওয়ার পর গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে দু-তিনবার
নিয়মিত রজঃস্রাব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো। জন্মবিরতিকরণ পিল খেতে যদি
কেউ ভুল করেন আর পিল চলা অবস্থায় গর্ভধারণ করেন, তাহলে অনেকে ভয় পেয়ে যান
যে গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে বা গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক কোনো বিকলাঙ্গতা ঘটতে
পারে। এসব ধারণারও কিন্তু কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
পিল সেবন মানেই মুটিয়ে যাওয়া?
আরো একটি ভুল ধারণা। প্রথম দিকের জন্মবিরতিকরণ বড়িগুলো ছিল উচ্চমাত্রার
এবং সেগুলোয় যে প্রজেস্টেরন হরমোন ব্যবহার করা হতো, তাতে কিছুটা ওজন বাড়ার
ঝুঁকি ছিল। কিন্তু বর্তমানে যেসব বড়ি পাওয়া যায় বা ডাক্তাররা খেতে বলেন,
সেগুলো সবই স্বল্পমাত্রার। আর প্রজেস্টেরন হরমোনও শরীরের চর্বিবান্ধব। ফলে
৬০ থেকে ৭০ শতাংশেরই ওজন বড়জোর দুই কেজির এদিক-ওদিক হতে পারে। অনেকে
জন্মবিরতিকরণ বড়ি শুরুই করেন এমন বয়সে (যেমন ত্রিশের পর), যখন এমনিতেই একজন
নারীর বয়সজনিত স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি শুরু হয়।
জন্মবিরতিকরণ বড়ি কি ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায়?
জন্মবিরতিকরণ বড়ি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণ বা
এট্রোমেট্রিয়ামের ক্যান্সার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। তবে দীর্ঘদিন
খেলে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে বলে মনে
করা হয়। তবে এর কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য-প্রমাণ নেই। কিন্তু যাদের আগে স্তন
ক্যান্সার হয়েছিল বা রক্ত সম্পর্কের কাছের আত্মীয়ের হওয়ার ইতিহাস আছে,
তাদের জন্মবিরতিকরণ বড়ি খেতে চিকিৎসকরা বারণ করেন সতর্কতা হিসেবে। যদি
পরিবারে স্তন ক্যান্সারের কোনো ইতিহাস না থাকে, পরিবারের কারো অল্প বয়সে
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো ধরনের রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার
অসুখ না থাকে, গত এক বছরে জন্ডিস কিংবা যকৃতের প্রদাহ অর্থাৎ হেপাটাইটিস
যদি না হয়, তীব্র মাইগ্রেনের ব্যথা বা হাঁপানি না থাকে, তাহলে আপনি
জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। খাবার নিয়ম হচ্ছে আগামী পিরিয়ডের
প্রথম দিন থেকে শুরু করবেন এবং প্রতিদিন একই সময়ে খাবেন, ভালো হয় রাতে
খেলে। তাহলে ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকবে। প্রথম পাতা শুরু করার পর ১০টি বড়ি
খাওয়া পর্যন্ত সঙ্গে কনডম ব্যবহার করতে হবে। প্রথম প্রথম একটু মাথা ঘোরাতে
বা বমি ভাব লাগতে পারে, তবে নিয়মিত খেলে এসব সমস্যা চলে যাবে আর বর্তমানে
যেসব পিল পাওয়া যায় সেগুলোয় এসব সমস্যা এমনিতেই কম হয়। আপনি যত দিন
গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে চান, তত দিন টানা জন্মবিরতিকরণ বড়ি খেয়ে যেতে
পারেন।
টানা খাওয়া ভালো নয়?
জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিয়ে অনেক
ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এটাও সে রকম একটা। একটা পিল শরীরে মানিয়ে যাওয়ার পর
কিছুদিন খেয়ে বন্ধ করে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করে আবার শুরু করতে গেলে পিল
শুরুর সময় যেসব ছোটখাটো সমস্যা হয়, সেগুলো আবার দেখা দিতে পারে।
জন্মবিরতিকরণ বড়ি শুরুর প্রথম দুই-এক মাসে কারো কারো মাঝেমধ্যে অল্প অল্প
পিরিয়ডের মতো, অনিয়মিত রক্ত যেতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা একেক দিন একেক সময়ে
পিল খান। নিয়মিত জন্মবিরতিকরণ বড়ি খাওয়া চালিয়ে গেলে এবং প্রতিদিন একই
সময়ে খেলে এ সমস্যা দুই-এক মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। তবে সমস্যা বেশি হলে
বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর নিয়মিত জন্মবিরতিকরণ বড়ি সেবন আরো
বেশ কিছু স্বাস্থ্যসুবিধা দেয়। যেমন- পিরিয়ডে রক্ত কম ভাঙে। ফলে রক্ত
স্বল্পতার সমস্যা কমে আসে। পিরিয়ড পূর্ববর্তী স্তন ব্যথা, তলপেট ব্যথা
ইত্যাদি কমে যায়। হাড়ে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি পায়। তাই অহেতুক অমূলক সব ভয় থেকে
বেরিয়ে স্বল্পমাত্রার জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিয়মিত সেবন করলে একদিকে অযাচিত
গর্ভধারণ যেমন প্রতিহত করা যায় তেমনি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুবিধাও পাওয়া যায়।
*****স্তন সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য*********
স্তন নারীদেহের একটি অংশ। স্তন নিয়ে নর-নারী উভয়েরই ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও
এর অনেক তথ্যই আমাদের অজনা। আজ আমরা স্তন সম্পর্কিত সেই রকম ৮ টি অজনা
তথ্য জানবো।------
১.প্রতিটি সাধারণ আকৃতির স্তনের ওজন... প্রায়৪৯৮ গ্রাম, এবং দেহের মোট চর্বির ৪-৫ শতাংশ চর্বি দিয়ে স্তন ... গঠিত। যাদের স্তন বেশ বড় তারা স্তনের ওজনের জন্য সামনের দিকে একটু ঝুঁকে পড়েন। .
২. পুরুষাঙ্গের মতই স্পর্শ পেলে স্তনের (স্তনবৃন্ত সহ) আকার বেড়ে যায়। .
তের
৩. যৌনতায় উত্তেজিত স্তনবৃন ্ দৈর্ঘ্য ০.৯৬ সেমি।
৪. আমাদের দেশের নারীদের স্তনের গড় আকৃতি ৩৪বি।
৫. বড় স্তনের নারীরা তাদের স্তন নিয়ে প্রায় সময়ই বিব্রত হন। ব্রেস্ট ইমপ্লান্টপদ্ধতি তে স্তনের আকার দৃষ্টিনন্দন করা যায়।
৬. মধ্য বয়সের বড় স্তনকে আকর্ষণীয় নয় বরং ছোট স্তন অনকে বছর পরও ছোট রাখাই আকর্ষণীয় ধরা হয়।
৭. স্তনের দুধের স্বাধ মিষ্টি, অনেক ভিটামিন-ই, আয়রণ এবং ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ।
No comments:
Post a Comment