বর্তমান সমাজে ইসলাম
শান্তির ধর্ম ইসলাম। ইসলাম শব্দের অর্থই হলো শান্তি। তবে এই শান্তিটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা এই শান্তির ধর্মের অনুসারী। আর অনুসারী বলতে তাদের কেই বুঝায় যারা অনুসরণ করে চলে। আর এই অনুসরণ মানে কিন্তু শুধুমাত্র এক/দুই দিনের অনুসরণ না বরং এই অনুসরণ বলতে প্রতিটি মুহুর্তের অনুসরণ বা সারা জীবনের অনুসরণকে বুঝানো হয়েছে। একজন মানুষের পরিপূর্ণ শান্তি রাখা হয়েছে ইসলামের মধ্যে। যা অন্য কোনো কিছুর ভিতরে রাখা হয় নি। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষ এই সহজ জিনিসটাই বুঝতে চায় না। এই সমাজের মানুষ এখন খুব বিচক্ষণ , খুব বুদ্ধিমান, অনেক বেশি মডার্ন। এত বেশি মডার্ন আর এত বেশি বুদ্ধিমান যে কোনটা আসল আর কোনটা কোনটা নকল এই সহজ জিনিসটাই তারা বুঝে না। হাজার হাজার কোটি টাকার মহামূল্যবান জিনিসকে মাত্র কয়েকটি টাকার বিনিময়ে বিসর্জন দিতে একটুও ইতস্তত বোধ করে না। তারা এতই বেশি জ্ঞানী যে হাজার হাজার বছরের সুখের চেয়ে ৫ মিনিটের সুখকেই বড় করে দেখে।
যাই হোক এখন আসল কথায় আসা যাক। কিছু দিন আগে আমি বাসে চড়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে মিরপুর যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার পাশের সিটে বসে থাকা ২ জন যাত্রীর কথা শুনে আমি সত্যি ই খুব মর্মাহত হলাম। একজন ছিল হলুদ গেন্জি পড়া আর অপর জন ছিল চেক শার্ট পড়া। দুই জনই খুব স্মার্ট এবং হ্যান্ডসাম। দেখে মনে হলো কোন কলেজের ছাত্র হবে হয়তো। তারপর ওদের কথা শুনে বুঝলাম যে হলুদ গেঞ্জি পরিহিত ছেলেটির নাম মৃদুল আর চেক শার্ট পড়া ছেলেটির নাম এমদাদ। ওরা দুইজন খুব মনোযোগ সহকারে হুজুরদের বদনাম করছিল।
এমদাদ : আরে আল্লাহ যে পৃথিবীতে কেন এই হুজুর মুজুর পাঠাইল। এইগুলোরে দেখলেই আমার গা জ্বলে। কাম নাই কাজ নাই, খালি খায় আর ঘুরে, মাঝখান দিয়া অন্যের অন্ন ধ্বংস করে।
মৃদুল : হুম .......... এই মানুষগুলো সমাজেও বেমানান। না পারে সমাজ নিয়া চলতে !!!!!!! না পারে সমাজের কোনো উন্নয়ন করতে।
এমদাদ : মানুষ কি আর খামাখাই কয় যে ''মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত''।
তখন আমি দেখলাম পুরা বাসের মধ্যে আমি একলাই একজন হুজুর। আর কোন হুজুর নাই। তখন নিজের কাছে খুব খারাপ লাগলো যে, এইভাবে একটা পাবলিক প্লেছে মুসলমানের বাচ্চারা মুসলমানদের নিয়ে কত খারাপ খারাপ কমেন্ট করছে আর কতগুলো মুসলমান তা শুনেও না শুনার ভান ধরে চুপ করে বসে আছে। প্রতিবাদ করার মত একটা মুসলমানও নেই। অথচ এই মুসলমানের বাচ্চারা ই যখন তাদের বাবা-মা, ভাই বোন্, আত্তীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী মারা যাবে তখন জানাজা পরার জন্য এই আকামের হুজুরদের কাছেই ছুটে আসবে। কোনো বিবাহ-শাদীর সময় এই হুজুর ছাড়া আর অন্য কোনো মডার্ন পাবলিক দিয়ে কাজটি করানো যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় এইটা কি মুসলমানের দেশ ? নাকি কোন ইহূদী-নাছারাদের দেশ ? যে দেশের মানুষরা সম্মান করে না তাদের ধর্মীয় গুরুজনদের। হুজুর দেখলেই কাঠ মোল্লা বলে অপমান করা হয়। ধর্মের কথা শুনলেই ধর্মীয় গোড়ামি বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এরা কি আসলেও মানুষ নাকি অন্য কিছু বুঝি না।
মুসলমান ছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষরা কখনই তাদের ধর্মীয় গুরুজনদের এতটা অসম্মান করে না। হিন্দুরা তাদের সাধকদের কত সম্মান করে, খৃষ্টানরা তাদের পাদ্রীদের কত রেসপেক্ট করে ? শুধুমাত্র আমাদের মুসলমানরাই তাদের ধর্মের ধারক ও বাহকদের নিয়ে এত নোংরা কমেন্ট করে। যারা দেশকে ভালবাসে না, দেশের মানুষকে ভালবাসে না, দেশের শত্রু, সমাজের শত্রু তাদেরকে তো বলা হয় রাজাকার আর যারা নিজ ধর্মের শত্রু , নিজের ধর্মকে নিজেই ঘৃনা করে, নিজের ধর্মের বিরুদ্ধে নিজেই কথা বলে তাদেরকে কি বলা উচিত।
যারা ইসলাম এবং মুসলমানকে ঘৃণা করে তারা অতিসত্বর জানতে পারবে কোথায় তাদের আবাসন ? কোথায় তাদের ঠিকানা ? কি তাদের পরিণাম ? অমুসলিমদের কথা জানি না তবে মুসলমান হয়ে মুসলমানকে ঘৃণা করা, ইসলামের অনুসারী হয়ে ইসলামকে হেয় করা কত বড় জঘন্য কাজ তা হয়তো দুনিয়াতে থেকে অনুমেয় নয়। তবে একদিন সবার চোখ খুলে যাবে, সেদিন চাইলেও চোখ বন্ধ করে রাখা যাবে না। আজ যারা ইসলামের কোনো কথা শুনলে বা আখিরাতের কথা শুনলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়, হুজুর দেখলে নাক আর কপাল ঘুচায় তারা সেদিন বুঝতে পারবে। ..............Who is the real intelligent and permanently successful ?
হুজুরে পাক ( স:) বলেছেন সেই ব্যক্তি বুদ্ধিমান যে মৃত্তুর আগে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে।
মুসলমানদের এই অধপতনের কারণ কি ? এই জাতি আজ এত নিকৃষ্ট কেন ? কেন এই মুসলমানরা অমুসলিমদের হাতে বন্দী ? এই জাতি তো বাদশাহীর জাতি !!!! এই জাতি তো শাসন করার জাতি !!! শাসিত হওয়ার জাতি নয়। তাহলে কেন আজ এই জাতি শোষিত , নিপীড়িত। কারণ এই জাতি আজ তাদের আসল পরিচয় ভুলে গেছে, তাদের আসল কাজকে ছেড়ে দিয়েছে। বাঘ যদি বাঘের সাথে না থেকে ছাগলের সাথে চলে আর ছাগলের সাথে ঘাস খেয়ে বেড়ায় তাহলে ছাগল তো তাকে লাত্থি মারবেই এইটাই স্বাভাবিক।
আসুন আমরা মুসলমানকে সম্মান করতে শিখি, ভালবাসতে শিখি, দুনিয়া বড় না আখিরাত বড় , চাকরি বড় না আল্লাহর হুকুম বড়, সামাজিকতা বড় না হুজুর ( সা:) এর সুন্নত বড়। আজ হয়ত আমি আর আপনি ঘুমের ঘোরে আছি তবে এই ঘোর একদিন কেটে যাবে। এই নি:শাস একদিন বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের আপনজনই আমাদের একদিন কবরে ফেলে দিয়ে আসবে। আল্লাহ পাকের হুকুম মানার কোনো বিকল্প নাই। আপনাকে আমাকে মানতেই হবে। যে মানবে সেই সফল হবে আর যে এড়িয়ে চলবে সেই পথভ্রষ্ট হবে। আর পথভ্রষ্টদের ঠিকানা জাহান্নাম। এখনও সময় আছে দুনিয়ার হায়াতকে কাজে লাগাই। আখিরাতকে দুনিয়ার উপর প্রাধান্য দেই।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে তৌফিক দান করেন .........................................আমীন।
No comments:
Post a Comment