Tuesday, December 24, 2013

ঘন চুলের দাওয়াই

পুষ্টি আসলে ভেতর থেকে আসা প্রয়োজন। এজন্য দরকার ঠিক ঠিক খাবার-দাবার। চুলে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের প্যাক না লাগিয়ে সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাতে উপকার পাওয়া যাবে বহুমুখী। রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা কামাল জানালেন বিস্তারিত।

স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ঝলমলে চুলের জন্য প্রোটিন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, মিনারেল ও ভিটামিন প্রয়োজন। পুষ্টিহীনতা এবং অতিরিক্ত ডায়েট চুল পড়ার জন্য দায়ী। আমরা যা খাই তার মিনারেল ও ভিটামিন প্রথমে কাজে লাগে আমাদের শরীরের অপরিহার্য অংশগুলোয় (ভাইটাল অরগান), তারপর হেয়ার ফলিকল ও নখ ছাড়া শরীরের বাকি অংশ পুষ্টি গ্রহণ করে। পুষ্টি চুলের গোড়ায় অনেক পরে গিয়ে পৌঁছে।

গাজর

গাজরের ভিটামিন এ মাথার স্কাল্পকে স্বাস্থ্যকর করে, চুল উজ্জ্বল করে। গাজর সিরাম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিরাম দ্রুত চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস খেতে পারেন।

পাকা টমেটো

টমেটোতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মাথার স্কাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এর কারণে চুলের ফলিকল স্টিমুলেট হয়। একটি পাকা টমেটো দিয়ে জুস বানিয়ে খেয়ে নিন।

আমলকী

আমরা সবাই চুলের যত্নে আমলকীর গুঁড়া ব্যবহার করি। তবে লবণ দিয়ে চার থেকে পাঁচটি আমলকী চিবিয়ে খেলেও চুল পড়া অনেকাংশে রোধ হবে। আমলকীতে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা নতুন চুল গজাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি চুল পড়া রোধ করে। এ ছাড়া চুল ঘন হয়।

কিউই

বিদেশি ফল কিউইতে ভিটামিন সি রয়েছে। একটি কিউইতে একটি কমলার চেয়ে দুই গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। এই ভিটামিন সি চুলের পুষ্টি জোগায় এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। জুস বানিয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস খেতে পারেন।

পালং শাক

পালং শাক চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। এতে ভিটামিন এ, সি এবং প্রচুর প্রোটিন আছে। এই উপাদানগুলো চুলের স্কাল্পে তেল উৎপন্ন করে চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। ভিটামিন এ ও সি-এর অভাবে চুলের বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি চুল নিষ্প্রাণ হয়। এতে আছে ক্যালসিয়াম ও আয়রন। এই দুটি উপাদানও চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। এর অভাবে চুল পাতলা, ভঙ্গুর ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। পাতলা চুলের বৃদ্ধি খুব ধীরে।

এলোভেরা

এলোভেরায় থাকা অ্যামাইনো এসিড, প্রোটিন, মিনারেল ও ভিটামিন, বিশেষ করে এ, সি, ই ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য প্রয়োজন। এলোভেরার পাতার ভিতরের শাঁস দিয়ে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন।

শসা

শসাতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে সিলিকা, সালফার এবং ভিটামিন এ। এই উপাদান চুলের বৃদ্ধি ঘটায় এবং চুল পড়া বন্ধ করে। কাঁচা শসার জুস স্বাস্থ্যকর এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খোসাসহ একটি কচি শসা খেলে নতুন চুল গজাবে।
 


চুলের যত্ন

ব্যবহার করা চা পাতা চার-পাঁচ কাপ পানিতে আবার ফুটিয়ে নিন। চুল কতটা লম্বা তার ওপর চা পাতায় কতটা পানি দেবেন সেটা নির্ভর করবে। পানি ছেকে ঠাণ্ডা করে ওই পানি দিয়ে শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে নিন। চা পাতার মধ্যে ট্যানিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে। ট্যানিন চুল চকচকে, সিল্কি ও মসৃণ করে। সব ধরনের চুলের জন্য এই হেয়ার রিন্স খুব উপকারী। চা পাতার পানিতে লেবুর রসও মেশাতে পারেন।

খুশকি ও মাথার খোশ পাচরা দূর করতে করনীয়ঃ


দূর্বা ঘাস এবং নিমপাতা বাটার সাথে ভিনেগার মিশিয়ে পেস্ট করে মাথায় লাগান এবং আধ ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার করুন। এতে খুশকি ও মাথার খোশ পাচরা দূর হবে।




প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা হোন 

কে না চায় পুতুলের মত লম্বা চুল, ফর্সা গায়ের রঙ আর উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী হতে। কেমিক্যাল আমাদের কোমল ত্বকের অনেক ক্ষতি করে। সেটা জেনেও সুন্দর দেখানোর জন্য আমরা অনেক সময় কেমিক্যালের আশ্রয় নিই। আজ আমি সেই সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে নিরাপদে ফর্সা হওয়ার কিছু টিপস দিব।

• ১ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু, ১টেবিল চামচ লেবুর রস এবং আধা... টেবিল চামচ বাদামের তেল ভালো ভাবে মিশিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার করুন। এই প্যাকটি মুখে শাইন আনবে আর রোদে পোড়া ভাব দূর করবে।

• বেশন, দুধ ২ চা চামচ এবং লেবুর রসের মিশ্রন মুখে, গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে ২বার এটা লাগান আপনার গায়ের রঙ অবশ্যই উজ্জ্বল হবে।

• ঝকঝকে ত্বকের জন্য চন্দন গুঁড়োর অবদান অনস্বীকার্য। চন্দন গুঁড়োর সাথে দুধ মিশিয়ে প্রত্যেকদিন হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। অল্প দিনের মধ্যে আপনার মুখে হাসি ফুটবেই।

• আপনার যদি টমেটো তে অ্যালার্জি না থেকে থাকে তাহলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সাথে টমেটোর ক্লাথ মিশিয়ে মুখে এবং গলায় ব্যবহার করুন ফর্সা ত্বকের জন্য আর ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

• আধা কাপ চায়ের লিকার(ঠাণ্ডা),২ চামচ চালের গুঁড়ো, আধা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান।চালের গুঁড়ো স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করবে আর মধু মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখবে।

• শশার রস আর মধু সমান পরিমাণ নিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন।এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। তৈলাক্তও ত্বকে মধুর বদলে লেবু ব্যবহার করতে হবে।

• সপ্তাহে একবার পাকা কলা চটকিয়ে মুখে লাগান আর ৩/৪ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।মুখে লুকিয়ে থাকা সব ময়লা নিমিষে পালিয়ে যাবে আর আপনি হয়ে উঠবেন আরো আকর্ষণীয়।

• ২ টেবিল চামচ বেসন,২ চিমটি কাঁচা হলুদ ,২-৩ ফোঁটা লেবুর রস আর ১ চা চামচ দুধ দিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেলুন।মুখে ৫ মিনিট ভালো ভাবে ম্যাসাজ করুন এই প্যাকটি।তারপর ২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।তবে মনে রাখবেন হলুদ কিন্তু সবার ত্বকের জন্য নয়। তাই আগে একটু টেস্ট করে নিবেন কাঁচা হলুদ আপনার বন্ধু না শত্রু।

• কাঁচা আলুর রস অথবা আলু পাতলা করে কেটে অথবা আলুর পাল্প দিনে ২ বার করে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাবেন।

আশা করছি টিপস গুলো আপনাদের কাজে লাগবে।কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখবেন উপাদানগুলোর সাথে আপনার ত্বক মানিয়ে নিতে পারে কিনা।আপনার এক বন্ধু বা আত্মীয় এক উপাদান দিয়ে উপকার পায় বলে আপনিও পাবেন এমন কোন কথা নেই।সেজন্য আমি বিভিন্ন উপাদানের প্যাকের রেসিপি দিয়েছি।সব সময় আগে অল্প করে হাতে লাগিয়ে দেখবেন কোন ধরণের চুলকানি কিংবা জায়গাটা লাল হয়ে যাচ্ছে কিনা,তারপর পছন্দসই প্যাকটি বেছে নিন।

ডিসক্লেইমারঃ ”ফর্সা ত্বক সৌন্দর্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়”

স্মরণশক্তি বাড়াতে মুষ্টিবদ্ধ হাত

ভুলো মনের মানুষদের জন্য সুখবর! গবেষকরা এমন একটি সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যা প্রয়োগ করে আপনিও যাচাই করে নিতে পারেন আপনার মস্তিষ্কে থাকা কোনো বিষয় পুনরায় স্মরণ করতে পারেন কি না। পদ্ধতিটি হলো স্রেফ মুষ্টিবদ্ধ হাত।

বিজ্ঞানীরা জানান, মুষ্টিবদ্ধ হাত মানুষের স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সেটা যখন তখন নয় এবং উভয় হাতের মুষ্টির ফলও একই রকম নয়। গবেষকদের মতে, কোনো কিছু মনে রাখা (মুখস্থ করা) এবং স্মরণ করার সময় হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলে পরে স্মৃতির জন্য তা সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে ডান হাতের মুষ্টি বেশি উপকারী। কারণ এ ধরনের শারীরিক নড়াচড়া স্মৃতি জমা ও স্মরণ-সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশটিকে সক্রিয় করে। তাঁদের মতে, বাজারের তালিকা বা টেলিফোন নম্বর মনে রাখার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।

গবেষণা কাজের প্রধান এবং ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর ডা. রুথ প্রপার বলেন, ‘এই গবেষণার ফল থেকে বোঝা যায়, শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়ার কারণেও সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভালো থাকুন (৪০) চল্লিশের পর ...

বয়স ৪০ পেরোলে শরীরের ব্যাপারে একটু বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। অনেক রোগ এ সময় প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা এড়ানো যায়। ৪০ পার হলে শরীরের একটা রুটিন চেকআপ করিয়ে নেওয়া ভালো। স্থ্থূলকায় হলে ওজন মেপে বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) হিসাব করুন। রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ পরীক্ষা করুন। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। তারুণ্য ধরে রাখতে রসনাকে সামলাতে শিখতে হবে। মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সে অনুযায়ী নিজেরও কিছু পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন। সাত দিনে কয়েকবার শান্ত, স্থির অবস্থায় রক্তচাপ মেপে লিখে রাখুন। রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করিয়ে নিন। বয়স ৫০ পেরোলে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের অবস্থা জেনে নিতে পারেন আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের পরীক্ষা পেপ-স্মিয়ার টেস্ট করানো উচিত। নিজে নিজেই স্তন পরীক্ষা করাটা শেখা থাকা দরকার। তবে পরীক্ষায় কোনো রোগের আভাস পাওয়া গেলেই ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন, কী নিয়ম মেনে চললে সুস্থ থাকবেন, এড়াতে পারবেন ভবিষ্যৎ জটিলতা।

অল্প বয়সে বিয়েতে দীর্ঘায়ু


একজন মানুষের সার্বিক জীবনধারণ প্রক্রিয়ার ওপর বিয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকতে হবে এবং বাল্য বিয়ে নয়। বিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এক গবেষণা বলছে- অল্পবয়সে বিয়ে করলে দীর্ঘ জীবন বেঁচে থাকা যায়। মৃত্যু ঝুঁকিকেও অনেকাংশে কমে যায় বয়ে জানিয়েছেন গবেষক ইলিন সিয়েগলার ও তার সহযোগীরা।

ইলিন সিয়গেলার বলেন, মাঝবয়সে একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ বয়সে একাকীত্ব মানুষকে ক্রমেই আশা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থাহীন করে তোলে।

৪০ বছর বয়সের পর একাকী থাকা, সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে হারিয়ে নতুন করে বিয়ে না করা অসময়ে মৃত্যুর ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। এমনকি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছানোটাও দুষ্কর হয়ে যায়। বিবাহিত যে ব্যক্তিদের ধূমপান বা অ্যালকোহলের বদভ্যাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও অবিবাহিতদের তুলনায় মাঝবয়সে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি।

অন্যদিকে মাঝবয়সের ঠিক আগে বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটলে ও একাকী থাকার সিদ্ধান্ত নিলে তা আয়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

No comments:

Post a Comment