Friday, January 3, 2014

সিদ্ধ  ডিমের উপকারিতা


সকালের নাস্তায় প্রতিদিন ডিম রাখা উচিত। বিশেষ করে তেলে ভাজা ডিম না খেয়ে প্রতিদিন একটি করে সেদ্ধ ডিম খান সকালের নাস্তায়। তাড়াহুড়ার কারণে যদি নাস্তা খাওয়ার সময় না থাকে তাহলেও একটি সেদ্ধ ডিম খেয়েই সেরে নিন সকালের নাস্তা। সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। ফলে সকাল বেলা একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।

ভালো চর্বি:

সেদ্ধ ডিমে শরীরের জন্য উপকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড চর্বি আছে। এগুলো স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে সরিয়ে দিয়ে তার স্থান দখল করে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। ফলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। হার্টের জন্য উপকারী এই চর্বি গুলো ইন্সুলিনও নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়বেটিসের জন্য এধরণের ফ্যাটগুলো খুবই উপকারী। সেদ্ধ ডিমের দুই তৃতীয়াংশই এ ধরণের উপকারী ফ্যাট দিয়ে গঠিত।

প্রোটিন:

সেদ্ধ ডিমে প্রাকৃতিক ভাবেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। সকাল বেলা নাস্তায়একটি সেদ্ধ ডিম খেলে ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।

চোখের স্বাস্থ্য:

ডিমের একটি প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভিটামিন এ। ভিটামিন এ রেটিনায় আলো শুষে নিতে সহায়তা করে, কর্নিয়ার পাশের মেমব্রেনকে রক্ষা করে এবং রাতকানার ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন সকালে একটি সেদ্ধ ডিম খেলে খাবার তালিকায় ৭৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ যুক্ত হয়।

হাড় গঠন:

সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন ডি যা হাড় ও দাঁত শক্ত করে। ভিটামিন ডি খাবার থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে এবং রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীরের হাড়ের কাঠামো মজবুত ও শক্ত হয় এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় একটি সেদ্ধ ডিম খেলে ৪৫ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ডি পাওয়া যায় যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

শক্তি যোগায়:
 

একটি বড় সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৮০ ক্যালোরী আছে। এর মধ্যে ৬০% ক্যালরী আসে চর্বি থেকে। ফলে সকালের নাস্তায় একটি মাত্র সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায় এবং দূর্বলতা হ্রাস পায়।

তবে কেউ যদি ক্যালোরী কাট-ছাট করতে চান তাহলে ডিমের কুসুমটা না খেয়ে কেবল মাত্র সারা অংশটা খান। তাহলে ডিমের ক্যালোরী অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে।







নিয়মিত পেয়ারা খান 


 জেনে নিন ৬টি অনন্য উপকারিতা -

শীতকালীন ফল পেয়ারা অনেক সুস্বাদু ও সহজলভ্য বিধায় সকলেরই বেশ পছন্দের। পাকা ও কাঁচা দুভাবেই এই ফলটি খাওয়া যায়। তবে গাছ থেকে পারার পর দুই দিনের মধ্যে খেলে পেয়ারার আসল স্বাদ ও পুষ্টি পাওয়া যায়। সকলের প্রিয় এই সুস্বাদু ফলটি এখন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মাস খানেক পরেই শুরু হবে ভরা মৌসুম। স্বাদের পাশাপাশি এর পুষ্টিগুনও অনেক বেশি। নানান পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফলটি আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত জরুরী। দুই ধরনের পেয়ারা আমাদের দেশে পাওয়া যায়। একটি সাদা ও অন্যটি গোলাপি। গোলাপি পেয়ারা সাদা পেয়ারার থেকে পুষ্টিগুণে বেশি সমৃদ্ধ। এই শীতে দিনে অন্তত একটি পেয়ারা আপনাকে দেহকে রাখবে সুস্থ ও রোগমুক্ত। জেনে নিন দেহকে সুস্থ রাখতে পেয়ারার ৬ টি অনন্য উপকারিতা।

উচ্চ রক্তচাপ রোধে

পেয়ারা উচ্চ রক্তচাপ রোধে অনেক বেশি কার্যকরী। পেয়ারাতে রয়েছে পটাশিয়াম যা দেহে উচ্চ রক্ত চাপের জন্য দায়ী সোডিয়াম এর প্রতিক্রিয়া দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা স্থির থাকে। ডাক্তারদের মতে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সপ্তাহে ৫টি পেয়ারা খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। এতে করে কোলেস্টরলের মাত্রা ঠিক থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

পেয়ারার ফাইবার রক্তের চিনি শুষে নেয়ার ক্ষমতা রাখে। ডায়েট এক্সপার্ট ও ডাক্তাররা বলেন যে খাবারে প্রতি ১০০ গ্রামে ৫.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে সে খাদ্যগুলো রক্তের সুগার শুষে নিয়ে দেহকে ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও পেয়ারার এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।

স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ

পেয়ারায় রয়েছে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি। একটি কমলালেবুর চেয়ে বেশি পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে একটি পেয়ারাতে। পেয়ারার ভিটামিন সি চামড়ার ইনফেকশনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে ও ত্বকে ক্যান্সার প্রতিরোধী স্তর গঠন করে। ফলে ত্বক ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পায়।

বুদ্ধি বৃদ্ধিতে করে

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে পেয়ারার সব চাইতে বেশি কার্যকরী। পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন বি৩ ও নিয়াসিন যা মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্য বজায় রাখে ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। পেয়ারার ভিটামিন বি৬ ও পিরিয়ডক্সিন মস্তিষ্কের নার্ভের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

চোখের সুরক্ষায় পেয়ারা

পেয়ারায় আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ যা চোখের সুরক্ষায় অতি কার্যকরী। ভিটামিন এ রাতকানা রোগ সহ চোখের ক্ষীণ ও দীর্ঘদৃষ্টি সহ সকল রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ডাক্তাররা ছোট শিশুদের ছোটকাল থেকেই পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চোখের সুরক্ষার জন্য।

ত্বকের যত্নে

মুখের ত্বকের বয়েসের ছাপ দূর করতে পেয়ারার জুড়ি নেই। ডারমাটোলজিস্টদের মতে দিনে অন্তত ১ টি পেয়ারা খেলে আপনি আপনার ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন। পেয়ারার ভিটামিন সি ও ই এবং আস্ট্রিঞ্জেন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে পুষ্টি যোগায় ও ভেতর থেকে ত্বকের ক্ষতি দূর করে। এবং সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষাকারী ‘লাইকোপেন’ ও রয়েছে পেয়ারাতে।



গাজরের গুণাগুণ

১. গাজর ক্ষুধা বাড়ায় এবং সহজে হজম হয়।
২. গাজরে প্রচুর ভিটামিন এ, বি ও সি আছে।
৩. গাজর খেলে শরীর নরম ও সুন্দর হয়।
৪. গাজর শরীরের শক্তি বাড়ায় এবং ওজন বাড়ে। 
৫. গাজরে ক্যারোটিন আছে প্রচুর পরিমাণ।
৬. শরীরের পুষ্টি এবং বুদ্ধির বিকাশে গাজর উপকারী।
৭. গাজর খেলে রঙ ফর্সা হয়, মুখের সৌন্দর্য বাড়ে। কারণ গাজরে আছে রক্ত পরিষ্কার করার গুণ।
৮. গাজরে ফসফরাস থাকার জন্য যারা মাথার কাজ করেন তাদের পক্ষে গাজর ও গাজরের শাক খুব উপকারী।
৯. গাজর শরীরের জ্বালা ও পেট ফাঁপা দূর করে।

গাজর আপনাকে করবে আকর্ষণীয়

যারা এক বেলা মোগলাই খানার বদলে সালাদের নাম শুনলেই মুখ ফ্যাকাশে করে ফেলেন তাদের জন্য একটি দুঃসংবাদ। কারণ, মোগলাই খাবার তৃপ্তি তো দেবে, কিন্তু আপনি যদি সৌন্দর্য্য সচেতন হন তাহলে সালাদ বেছে নেয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সালাদ যাতে গাজরের পরিমাণ থাকবে বেশি। এই গাজরই আপনাকে করে তুলবে আকর্ষণীয়, ত্বক রাখবে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল। সম্প্রতি ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই তথ্য জানালেন। গবেষকরা জানান, গাজরে আছে এক ধরনের হলুদ বর্ণের রঞ্জক পদার্থ, এর নাম ক্যারোটিনোয়েডস। এই উপদানটি আমাদের ত্বক কোষে পৌঁছে, একে পরিষ্কার করে এবং সেই রঞ্জক পদার্থের আভাই আমাদের ত্বকে পরিলক্ষিত হয় এবং কম সময়েই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা যায়।

এই গবেষণার প্রধান ইয়ান স্টেফেন জানান, নিয়মিত গাজর খেলে দুই মাসের মধ্যেই ত্বকে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি বলেন, “আজকাল কোনো তরুণ-তরুণীকে যদি গিয়ে বলি সবজি খাও, তা না হলে ৪০ বছর বয়সে গিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তখন, তারা এক গাল হেসে উত্তর দেবে বয়স ৪০’র কাছাকাছি আগে যাক এরপর তা দেখা যাবে। কিন্তু আমি বলি, সুদর্শন কিংবা আকর্ষণীয় হতে হলে এই খাবারটি অত্যাবশ্যক তা হলে দেখবেন কেউ আর দেরি করবে না।” তিনি  আরও বলেন, “এই ফাস্ট প্রজন্মের খাবারের ধরন দিন দিন বিগড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের ত্বকে। তাই, তাদের আরো বেশি ফল ও সবজির দিকে ঝুঁকতে হবে।”




No comments:

Post a Comment