Thursday, December 19, 2013

মুখে দুর্গন্ধ হয় যে সকল কারণে

মানুষের দেহ রহস্যাবৃত। কয়েক ট্রিলিয়ন (১০০ বিলিয়ন= এক ট্রিলিয়ন) ছোট ছোট জীবন্ত তুলতুলে বস্তু দিয়ে মানুষের শরীর গঠিত। এই তুলতুলে বস্তুগুলোর নাম কোষ। আর প্রত্যেক কোষের চারপাশে অন্তত ১০টি ব্যাকটেরিয়া থাকে। আকারে খুবই ছোট্ট হওয়ায় এদের খালি চোখে দেখা যায় না। একমাত্র শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রেই এদের দেখা সম্ভব। অন্যান্য  জীবন্ত প্রাণীর মতোই ব্যাকটেরিয়ারাও খাওয়া-দাওয়া করে। বংশ বিস্তার করে এবং তারপর মারা যায়। আমাদের দেহের ঘামের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ কিংবা নাড়িভুঁড়ির (ক্ষুদ্রান্ত্র) লবণ খেয়ে বেঁচে থাকে ব্যাকটেরিয়ারা। সেই সঙ্গে তৈরি করে একগাদা আবর্জনা। এসব আবর্জনার কারণেই শরীর ও মুখ থেকে বিশ্রি দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।
অনেকে মনে করছেন তাহলে ওইসব ব্যাক্টেরিয়ার কারণেই বার বার শরীর অসুস্থ হয়। একথাটাও পুরো সত্য নয়। আসলে জন্মের সময়ই মায়ের কাছ থেকে সবার দেহে ব্যাকটেরিয়া আসে। বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া কোনো ক্ষতি না করেই বছরের পর বছর দেহে বসবাস করে। প্রতিদিন খাবার আর পানির সঙ্গেও আমরা অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া খাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সুস্থতার জন্য ওদের দরকার। কিছু ব্যাকটেরিয়া দিয়ে টিকা আর ওষুধ তৈরি হয়।
প্রত্যেকটি মানুষের হাতের ছাপ আলাদা হয় এটা সবার জানার কথা। সেরকম সব মানুষের ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবও আলাদা। দেহে অসংখ্য প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকলেও এদের মধ্যে চারটি বিখ্যাত। সেগুলো হলো:
১.অ্যাকটিনোমাইকোসিস ভিসকোসাস: এই ব্যাক্টেরিয়ার কারণেই দাঁতে বাদামি থকথকে প্যাক জমে মুখে দুর্গন্ধ হয়। দাত ক্ষয়ে যায়। যন্ত্রপাতি দিয়ে দাঁতের চিকিৎসক যখন প্যাক তোলেন, তখন তিনি আসলে মুখে বাস করা এই ব্যাকটেরিয়াদের আক্রমণ করেন।
২. ই কোলাই: এ অণুজীবের বাস নাড়িভুঁড়ির ভেতরে। এরা সব সময়ই কাজে ব্যস্ত। উপকারী ই কোলাই আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় ভিটামিন তৈরি করে। আর ক্ষতিকর ই কোলাইর কারণে সারাদিন বমিও হতে পারে।
৩.মিথেনোজেনস: বিশ্বের অর্ধেক মানুষের নাড়িভুঁড়িতে এই অণুজীব বাস করে। মানুষসহ সব প্রাণীদেহে এরা মিথেন গ্যাস তৈরি করে। পেটের এ গ্যাস বাইরে বের হলে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
৪. ব্রেভিব্যাকটেরিয়াম লিলেনস: এ বিশ্রী গন্ধের অণুজীবগুলো থাকে ঘামের মধ্যে। এদের কারণেই জুতা খুললেই ভক করে নাকে দুর্গন্ধ লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কটু পনির বানাতে এ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।




দাঁতের ইনফেকশন



দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন হয়েছে, মাড়ি ফুলে গিয়ে ব্যথা করছে ভীষণ। এদিকে এই মুহূর্তে হয়তো ডাক্তারের কাছে যাবার উপায় নেই। কি করবেন তখন? অসহায় অবস্থায় অবস্থায় সহ্য করবেন? একদম না! প্রাকৃতিক চিকিৎসাতেই কমে আসবে এই ইনফেকশন, সাথে কমবে ব্যথাও। আজ রইলো চা পাতার ব্যবহারে দাঁতের ইনফেকশন দূর করার প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

এক কাপ গরম পানি নিন, তার মাঝে একটি টি ব্যাগ ডুবিয়ে ১ মিনিট রাখুন। তৈরি হবে যাবে চমৎকার এক কাপ রঙ চা। এই ব্যাগটি উঠিয়ে নিয়ে উষ্ণ অবস্থাতেই দাঁতের যেখানে ইনফেকশন হয়েছে সেখানে চেপে বসিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন টি ব্যাগ যেন ফেটে না যায়। চায়ের মাঝে থাকা ট্যানিন দ্রুত ইনফেকশন কমাবে ও ব্যথার উপশম করবে। চা টি চাইলে পান করতে পারেন দুধ চিনি মিশিয়ে। অথবা এই চা দিয়ে কুলি করে নিলেও তা ইনফেকশন কমাতে সহায়ক হবে।

স্লিম এবার হতেই হবে


- প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। আর প্রতিবার খাওয়ার আধা ঘন্টা আগে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করুন।
- ভাত, আলু ইত্যাদির মত উচ্চ শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খান। আর খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবন খাওয়ার অভ্যাসটা বাদ দিন।
- সাধারণ চা কিংবা কফির পরিবর্তে গ্রীণ টি খাওয়া শুরু করুন।...
-কম ক্যালরিযুক্ত ফলমূল যেমন- শসা প্রচুর পরিমানে খেতে পারেন।
- তিক্ত স্বাদের সবজি খেতে আমরা অনেকেই অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু এটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- টক জাতীয় ফল বা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন।
-মসলাজাতীয় খাবার যেমন: আদা, দারচিনি, কালো মরিচ ইত্যাদি ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই এগুলো তরকারীতে পরিমান মতো খেতে পারেন।
-চর্বিযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলুন।
- সর্বদা উচ্চমাত্রার ক্যালরি বিশিষ্ট এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
-প্রতিদিন কিছু কিছু ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন।
-লিফটের চেয়ে সিড়ি ব্যবহারই আপনার জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে।
-নিজের কাজগুলো নিজেই করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
-কাছাকাছি কোথাও গেলে হেটেই চলে যান।
-সর্বপোরি ধৈর্য ধরে চেষ্টা করুন। কারন ওজন কমানো বা স্লিম হওয়া রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার মত কোন ব্যাপার নয়। কাজেই অধৈর্য হলে চলবে না।


কম ঘুমে ত্বকের ক্ষতি

চামড়া অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ আছে, তবে অজানা আরেকটি কারণ হলো ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার সমস্যা বা অনিদ্রা। কম ঘুম মানুষের শরীরের চামড়ার ওপর প্রভাব ফেলে এবং চামড়াকে বুড়িয়ে দেয়। এমনকি পারিবেশের চাপ এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই চামড়ার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আর নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে সূর্যের আলোয় গেলে সেটা আরও খারাপ অবস্থা হয়। অর্থাৎ অনিদ্রাজনিত কারণে চামড়ার যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। নারীদের জন্য এটা আরও খারাপ। কম ঘুমের কারণে বুড়িয়ে যাওয়া চামড়ার জেল্লা ফিরিয়ে আনারও কোনো উপায় থাকে না। যারা প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমোতে পারে কিংবা ঘুমানোর সুযোগ পায়, তাদের চামড়া অন্যদের তুলনায় অনেক সজীব ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।


No comments:

Post a Comment